নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আলী রেজার বিরুদ্ধে আবারও আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মোঃ আলী রেজা ভাড়াটে লোকজন জড়ো করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা। এসব কর্মসূচি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় জনগণ।
উল্লেখ্য, মোঃ আলী রেজা এর আগে কেরানীগঞ্জ-৩ আসনে স্বৈরাচারী সরকারের পাতানো নির্বাচনে “ট্রাক মার্কা” প্রতীকে প্রার্থী হয়ে ভোটের নামে প্রহসন ঘটিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি জনগণের ভোটে নয়, বরং আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় তথাকথিত প্রার্থী হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মোঃ আলী রেজার নামে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ও সমঝোতার সুযোগ নিয়ে তিনি অবাধে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে তিনি গাংচিল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, তিনি এই পরিবহনের কর্মচারী ও শ্রমিকদের রাতের আঁধারে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করাচ্ছেন। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মোঃ আলী রেজা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। জনগণের মুখে একটাই প্রশ্ন— এমন এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নীরব কেন?
স্থানীয় সাধারণ মানুষ বলছেন, সে এখনো আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন, একাধিক মামলার আসামি হয়েও সে যদি প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে পারে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনে তিনি গাংচিল পরিবহনের অফিসে বসে থাকেন, আর রাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান তোলেন— এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে।”
আরেকজন তরুণ জানান, “এলাকায় কে কোন দলে সেটা এখন বোঝা মুশকিল, কারণ টাকার বিনিময়ে সবাইকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে মোঃ আলী রেজার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।